২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোলেও প্যারাগুয়ের কাছে হেরে শেষ ৩২-এ থেমেছে জার্মানি। ফলে এবারের অভিযানও বিব্রতকরভাবে শেষ হয়েছে। জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস ‘বিল্ড’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, এবারের আসরে দলের পারফরম্যান্স ২০১৮ ও ২০২২ সালের চেয়েও খারাপ ছিল।

২০১৮ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জার্মানি মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইডেনের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল এবং শেষ স্থানে থেকে বিদায় নেয়। ২০২২ সালে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও কাতার বিশ্বকাপে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় হওয়া জার্মানি নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। বাইরের মহলে আশা ছিল, ইউলিয়ান নাগেলসমান ২০২৬ সালে দলকে ঘুরে দাঁড় করাবেন।
নাগেলসমানের নেতৃত্বে জার্মানি গ্রুপের শীর্ষস্থান পেলেও শেষ ১৬-তেই দ্রুত বিদায় নেয়। এ নিয়ে ম্যাথাউস কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “এমন খেলোয়াড়দের নিয়েও এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হলো—এটি আমি এখনো বুঝতে পারছি না। বাস্তবতা স্পষ্ট: এই জার্মানি ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলের চেয়েও খারাপ, ২০২২ সালের দলের মানেও পৌঁছায়নি। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বিবেচনায় গত ৩ বিশ্বকাপের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স।”
ম্যাথাউস বলেন, ৪ বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি অন্তত “গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে অনেক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল।”
“সেবার স্পেনের সমান পয়েন্ট পেয়েছিলাম আমরা, আর আমাদের বিদায়ে দুর্ভাগ্যেরও কিছুটা ভূমিকা ছিল। ১-১ হওয়া সেই ম্যাচে আমরা প্রতিপক্ষের সমানতালে খেলেছি, এমনকি জয়ের সুযোগও ছিল। জিততে পারলে আমরা পরের পর্বে উঠতাম।”
ম্যাথাউসের মতে, এর বিপরীতে ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। “সেই স্পেন দলের ১১ জন খেলোয়াড় রোববার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের ১/৮ ফাইনালে মরক্কোর কাছে হারের পর অভিজ্ঞ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নিয়ে সফলভাবে দল গড়ে তুলেছেন। অথচ আমাদের এবারের বিশ্বকাপ দলে এখনো ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা ৯ জন ছিল। উন্নতি? একেবারেই দেখা যায়নি!”
তিনি আরও বলেন, অনেক ভুল করা সাবেক জাতীয় কোচ নাগেলসমানকে একা সব দায় দেওয়া উচিত নয়: “অন্তত গত সাড়ে ৩ বছরে জার্মান ফুটবলে একের পর এক সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। এখন কোনো কিছু আড়াল না করে সব পর্যালোচনা ও সংশোধন করতে হবে। আমার বিশ্বাস, নতুন জাতীয় কোচ ক্লপ এই কাজ এগিয়ে নেবেন।”
জার্মান ফুটবলের এই কিংবদন্তি আরও বলেন, জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কার্যত “এই বিশ্বকাপটি নষ্ট করেছে।” তিনি বলেন, “পরিস্থিতি ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের হুবহু পুনরাবৃত্তি, যখন আমিও দলের হয়ে খেলেছিলাম। অধিকাংশ ভুল একই, সমস্যাগুলোও একই—এটাই আমাকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করে।”